ব্যথার ওষুধ বেশি খেলে কী ক্ষতি হতে পারে?
![]() |
| চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অনিয়মিত ব্যথার ওষুধ গ্রহণ স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতির কারণ হতে পারে |
প্যারাসিটামল সেবনে যে ৫টি ভুল করা যাবে না
ভিটামিন ও মিনারেল সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই সবার প্রয়োজন?
খাবারের আগে নাকি পরে ওষুধ? কোন ওষুধ কখন খেতে হয় এবং কেন?
এ্যাজমা রোগীদের সচেতনতা: জানুন, বুঝুন, নিয়ন্ত্রণে রাখুন
ব্যথার ওষুধ বা পেইনকিলার আমাদের সাময়িক আরাম দিলেও, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘন ঘন বা দীর্ঘদিন এগুলো খাওয়া শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। মাথাব্যথা, গ্যাস্ট্রিক বা হালকা গা ব্যথায় নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ খাওয়ার এই প্রবণতা ধীরে ধীরে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্থায়ী ক্ষতি ডেকে আনে।
১. পাকস্থলী ও হজমতন্ত্রের ক্ষতি আইবুপ্রোফেন, নেপ্রোক্সেন বা কিটোরোলাকের মতো ওষুধ (NSAIDs) পাকস্থলীর ভেতরের সুরক্ষামূলক স্তর পাতলা করে ফেলে। এর ফলে:
- তীব্র গ্যাস্ট্রিক ও এসিডিটি হয়।
- পাকস্থলীতে আলসার বা ঘা তৈরি হতে পারে।
- গুরুতর ক্ষেত্রে পাকস্থলী থেকে রক্তক্ষরণ (Internal Bleeding) হতে পারে।
২. কিডনির স্থায়ী ক্ষতি দীর্ঘদিন ব্যথার ওষুধ খেলে কিডনিতে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়। ফলে কিডনি রক্ত পরিষ্কার করার ক্ষমতা হারাতে থাকে। নিয়মিত পেইনকিলার খাওয়ার অভ্যাস থেকে 'এanalgesic Nephropathy' বা কিডনি ফেইলিউর হতে পারে, যা পরবর্তীতে ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপনের দিকে ঠেলে দেয়।
৩. লিভারের ক্ষতি প্যারাসিটামল তুলনামূলক নিরাপদ মনে হলেও, অতিরিক্ত মাত্রায় (দিনে ৪ গ্রামের বেশি) খেলে তা লিভারের জন্য বিষাক্ত হয়ে ওঠে। একে 'হ্যাপাটোটক্সিসিটি' বলে, যা থেকে লিভার ফেইলিউর হতে পারে।
৪. হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি কিছু শক্তিশালী ব্যথার ওষুধ শরীরের রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং রক্তনালী সংকুচিত করে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এগুলো দীর্ঘদিন খেলে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে যায়।
৫. রিবাউন্ড হেডেক (Rebound Headache) মাথাব্যথা কমানোর জন্য ঘন ঘন পেইনকিলার খেলে শরীর ওই ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ওষুধ না খেলে বা এর প্রভাব শেষ হলেই আবার দ্বিগুণ তীব্রতায় মাথাব্যথা ফিরে আসে, যাকে ‘মেডিকেশন ওভারইউজ হেডেক’ বলা হয়।
কী করা উচিত?
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনো টানা ৩-৫ দিনের বেশি পেইনকিলার খাবেন না।
- ব্যথার ওষুধ সবসময় ভরা পেটে প্রচুর বাড়িত জলসহ খাওয়া উচিত।
- হালকা বা মাঝারি ব্যথায় ওষুধের বদলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, আকুপ্রেসার, আইস প্যাক বা গরম শেঁক দেওয়ার মতো প্রাকৃতিক উপায় চেষ্টা করুন।
- আপনার যদি আগে থেকেই গ্যাস্ট্রিক, প্রেসার বা কিডনির সমস্যা থাকে, তবে ব্যথার ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারকে জানান।
পেইনকিলার সাময়িক স্বস্তি দেয়, কিন্তু কোনো রোগের মূল চিকিৎসা নয়। তাই ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে ওষুধ না বাড়িয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে মূল কারণ চিহ্নিত করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

No comments:
Post a Comment
We value your insights! Feel free to share your thoughts, ask questions, or provide feedback. Please keep comments relevant and respectful. Spam or promotional content will be removed.